
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ঝাউগারচর কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত অনুপস্থিতির সুযোগে পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে ওষুধ বিতরণসহ ক্লিনিকের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। মাসে মাত্র এক হাজার টাকা সম্মানীতে আলপনা (৩০) নামের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী দীর্ঘদিন ধরে ক্লিনিক খোলা-বন্ধ, রোগীদের সেবা দেওয়া ও ওষুধ বিতরণের মতো কাজ করে আসছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের একটি পশ্চাৎপদ ঝাউগার ও আলশাহী এলাকার
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি মো. হাসান ফারুক এবং এফডব্লিউএ রাজিয়া সুলতানা নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না। তারা মাঝে-মধ্যে ক্লিনিকে এলেও অধিকাংশ সময় ক্লিনিকের কার্যক্রম সচল রাখার দায়িত্ব পড়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী আলপনার ওপর।
এ বিষয়ে ক্লিনিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মাসুদ মিয়া এবং কমিটির সদস্য মো. মোন্তাজ উদ্দিন মুন্তা এ প্রতিনিধিকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আলপনা প্রতিদিন ক্লিনিক খুলে দেওয়া থেকে শুরু করে বন্ধ করা, রোগীদের ওষুধ দেওয়া এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজও করে থাকেন। অথচ এসব কাজ করার জন্য তার কোনো স্বাস্থ্যকর্মীর পদমর্যাদা বা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর হাতে ওষুধ বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকা রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ কোন রোগীকে কোন ওষুধ, কী মাত্রায় ও কতদিন দিতে হবে—এ বিষয়ে যথাযথ চিকিৎসা জ্ঞান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি প্রয়োজন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝাউগারচর কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনটির বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ ও অপরিচ্ছন্ন। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং ভবনের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিনের অযত্নের ছাপ রয়েছে। ছবিতে ক্লিনিকের সামনে একজন নারীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এদিকে মাত্র এক হাজার টাকা মাসিক সম্মানীতে আলপনার ওপর এতগুলো দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকার জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা নিয়মিত উপস্থিত না থাকলে এর সুফল জনগণ কীভাবে পাবেন?
তদন্তের দাবি স্থানীয়দের
স্থানীয় বাসিন্দারা ঝাউগারচর কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের উপস্থিতি, ওষুধ বিতরণের নিয়ম, ওষুধের মজুত ও বিতরণ রেজিস্টার এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার কাজ করানোর অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সিএইচসিপি মো. হাসান ফারুক ও এফডব্লিউএ রাজিয়া সুলতানার বক্তব্য জানা গেলে প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে।অপরদিকে জেলা সিভিলসার্জন এ অনিয়মিত উপস্থিতি সম্পর্কে বিভাগীয় ব্যবস্হা নিবেন বলে তার মুঠোফোনে এ প্রতিনিধি কে নিশ্চিত করেছেন।
সম্পাদক: তাওহীদ পাটোয়ারী মনির
প্রকাশক: তাহমিনা চৌধুরী অরিন
অফিস : ৫৫/এ, সিদ্দিক ম্যানসন, পুরানা পল্টন, ঢাকা ১০০০
মোবাইল : 01518430640
ই-মেইল : info@ttvbangladesh.com