মুক্তাগাছার ডিলারের কাগজ ব্যবহার করে সার পাচার,মধুপুরে ট্রাক আটক
মোঃ শাহীন আলম
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার দুই সার ডিলারের নামে কাগজপত্র ব্যবহার করে অন্যত্র সার পাচারের ঘটনায় মধুপুরে একটি সারবোঝাই ট্রাক আটক করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিএডিসি গুদামের রেকর্ড যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আটক সারটি মুক্তাগাছার মেসার্স মা-বাবা এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মেজবা এন্টারপ্রাইজের বরাদ্দকৃত সার নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে সারবোঝাই ট্রাকটি মুক্তাগাছা হয়ে মধুপুর যাওয়ার পথে অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়িতে আটক হয়। ট্রাকে পাওয়া কাগজপত্রে মুক্তাগাছার দুই ডিলারের নাম থাকলেও সেগুলো ছিল ফটোকপি ও অসম্পূর্ণ। পরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা শম্ভুগঞ্জের সংশ্লিষ্ট বিএডিসি গুদাম পরিদর্শন করে স্টক ও সরবরাহের নথি যাচাই করেন। সেখানে ওই দুই ডিলারের নামে আটক সার ছাড়ের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
গাড়ীর চালক সুত্রে জানা যায় রুবেল নামের একজন তার ট্রাক ভাড়া করে মধুপুর সার নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং মধুপুরের জলছত্র এলাকায় রহিম নামের একজন তাকে রিসিভ করে নিয়ে যাবে, এবং তার ফোন নাম্বার দিয়ে দেয় চালকের কাছে, সেই সাথে ফটোকপি করা ভুয়া চালান। চালানে গুদাম ও সার ডিলারের কোন স্বাক্ষর নেই।
এমনকি ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ওই দুই ডিলার চলতি মাসের বরাদ্দকৃত সার যথাযথ প্রক্রিয়ায় উত্তোলন করেন। এ-সংক্রান্ত চালান, রসিদ ও অন্যান্য কাগজপত্রও সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে ৩ সেপ্টেম্বর মধুপুরে আটক সারকে মুক্তাগাছার দুই ডিলারের বরাদ্দের সার হিসেবে চিহ্নিত করার কোনো ভিত্তি নেই।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। প্রকাশিত সংবাদে ট্রাক ও সার জব্দ এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে সার পাচারের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর মধুপুরের একজন ব্যক্তি প্রথমে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পরবর্তীতে ওই পোস্টের তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এতে মুক্তাগাছার ডিলারের নাম সার পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়ভাবে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিলমিন জাহান ইলমা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“সার পাচারের মতো গুরুতর ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা জরুরি। কিন্তু কোনো ডিলারের নামে সার পাচারের অভিযোগ করার আগে সংশ্লিষ্ট গুদামের রেকর্ড, চালান ও সরবরাহসংক্রান্ত নথি যাচাই করা উচিত। মুক্তাগাছার দুই ডিলারের নামে আটক সার গুদাম থেকে ছাড়ের তথ্য না থাকলে তাদের নাম কীভাবে ওই ঘটনায় ব্যবহার করা হলো, সেটিও তদন্তের বিষয়।”
তিনি আরও বলেন,
“৬ সেপ্টেম্বর দুই ডিলার চলতি মাসের বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র সংরক্ষিত আছে। তাই ৩ সেপ্টেম্বরের মধুপুরের ঘটনার সঙ্গে মুক্তাগাছার ডিলারদের বরাদ্দকৃত সারকে এক করে দেখার আগে নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো পোস্ট বা যাচাইবিহীন তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।””
এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন—সারটি কোথা থেকে এসেছিল, কোথায় যাচ্ছিল, কার কাছে যাওয়ার কথা ছিল এবং মুক্তাগাছার দুই ডিলারের নাম ও কাগজপত্র কীভাবে ব্যবহার করা হলো? সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ প্রশ্নগুলোর উত্তর বের হলেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে।
সত্য উদঘাটিত হোক—প্রকৃত অপরাধী শাস্তি পাক, আর নির্দোষ কেউ যেন অপপ্রচারের শিকার না হন।
সম্পাদক: তাওহীদ পাটোয়ারী মনির
প্রকাশক: তাহমিনা চৌধুরী অরিন
অফিস : ৫৫/এ, সিদ্দিক ম্যানসন, পুরানা পল্টন, ঢাকা ১০০০
মোবাইল : 01518430640
ই-মেইল : info@ttvbangladesh.com