
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সাপ খেলা দেখানোর সময় সাপুড়ের মন্ত্র পড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গতকাল রাতে মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মামলার প্রধান আসামি মো. আশরাফুল ইসলাম (৪৫), ৩ নম্বর আসামি মো. মাবু মিয়া (৩০), ৪ নম্বর আসামি মো. লেবু মিয়া (৩০) ও ৫ নম্বর আসামি মো. এরশাদ আলী (৪০)। তাঁরা সবাই রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রাম ওঝা গ্রামের বাসিন্দা এবং তাঁদের বাবার নাম মো. নূর হোসেন।
র্যাব জানায়, গত ২৫ আগস্ট রাতে গঙ্গাচড়ার কাশিয়াবাড়ীর হাটসংলগ্ন কমিউনিটি ক্লিনিক মাঠে সাপ খেলা দেখাচ্ছিলেন এক সাপুড়ে। একপর্যায়ে সাপুড়ের মন্ত্র পড়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ বাধে। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ আরও ৯ থেকে ১০ জন সাপুড়েকে মারধর শুরু করেন।
সাপুড়েকে মারধর থেকে উদ্ধারের জন্য সেখানে এগিয়ে যান বৃদ্ধ এন্দাজ মিয়ার (৭৪) বড় ছেলে আবদুল মালেক। তিনি সাপুড়েকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন। পরে আসামিরা আবদুল মালেককে গালাগাল ও মারধর শুরু করেন। তাঁর চিৎকার শুনে বাবা এন্দাজ মিয়া এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ২৬ আগস্ট এন্দাজ মিয়ার ছেলে বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান।
র্যাব-১৩ জানায়, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করা হয়। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩-এর রংপুরের সিপিএসসি ও র্যাব-১১-এর নারায়ণগঞ্জের সিপিসি-১-এর একটি যৌথ দল মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী এলাকায় অভিযান চালায়।
র্যাবের দাবি, রাত ৮টা ৫ মিনিটে বালিগাঁও বাজার এলাকা থেকে আশরাফুল ইসলাম ও মাবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ইসলামপুর বাজার এলাকা থেকে লেবু মিয়া ও এরশাদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
সম্পাদক: তাওহীদ পাটোয়ারী মনির
প্রকাশক: তাহমিনা চৌধুরী অরিন
অফিস : ৫৫/এ, সিদ্দিক ম্যানসন, পুরানা পল্টন, ঢাকা ১০০০
মোবাইল : 01518430640
ই-মেইল : info@ttvbangladesh.com