সোমবার, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০ রবীউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরী | ৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ
মোঃ আজিজুল হাকিম পার্বতীপুর,দিনাজপুর, প্রতিনিধি
শিরোনাম: শিশিরভেজা সকাল ও আশার ভোর
আজকের কুয়াশাজড়ানো শীতালু সকালে ঘুম থেকে উঠেই চোখ আটকে গেল প্রকৃতিতে। ধানের ডগায় জমে থাকা একফোঁটা শিশির কিংবা কচুপাতার বুকে রূপালি মুক্তোর মতো টলমল করতে থাকা জলের বিন্দু—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতা! চারপাশের এই দৃশ্য দেখে মনে গভীর এক দোলা দিয়ে গেল—তবে কি বহু প্রতীক্ষিত শীতের আগমন ঘটছে? প্রখর গ্রীষ্ম আর ভ্যাপসা গরমের দীর্ঘ ক্লান্তি পেরিয়ে প্রকৃতির এই নীরব পরিবর্তন আমাদের হৃদয়কে যেন হঠাৎই এক অচেনা আনন্দে ভরিয়ে দিল।
দীর্ঘদিনের কাঠফাটা রোদ আর ঘামে ভেজা ক্লান্তি মানুষকে যখন দিশেহারা করে তুলেছিল, তখন এই শীতল হাওয়া যেন বুকভরে স্বস্তির শ্বাস ফেলার সুযোগ এনে দিয়েছে। প্রকৃতিতে ঋতুর এই রূপবদল তো সৃষ্টি কর্তার এক অশেষ রহমত ও মহান নেয়ামত ছাড়া আর কিছুই নয়!
বিশেষ করে আমাদের কৃষক ভাইদের কথা ভাবলে মনটা গভীর শ্রদ্ধায় ভরে ওঠে। তীব্র রোদে পুড়ে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যারা জমিতে ফসল ফলান, তাদের ক্লান্ত শরীরে যখন এই শিশিরভেজা সকালের প্রথম ঠাণ্ডা স্পর্শ লাগে—সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। গরমের দিনগুলোতে ক্লান্ত হয়ে মানুষ প্রায়ই আক্ষেপ করত, "আর কতদিন এমন উনুনের মতো জ্বলবে প্রকৃতি?" সেই সব অনিশ্চয়তা ও কষ্টের পর এই ঠাণ্ডা পরশ যেন এক পরম শান্তি। গরমের তীব্র উষ্ণতা পেরিয়ে না আসলে হয়তো এই সামান্য শিশিরবিন্দুর সুখ আর প্রকৃতির মহানুভূতির কদর আমরা বুঝতে পারতাম না।
শিশিরের স্পর্শে জেগে ওঠা এই অপূর্ব ভোরের মধ্য দিয়েই আমরা নতুন উদ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পাই। পরম করুণাময়ের এই অনন্য দরদ ও আশীর্বাদকে বুকে জড়িয়ে সবাইকে জানাই হেমন্ত ও আসন্ন শীতের স্নিগ্ধ শিশিরভেজা শুভেচ্ছা। আসুন, প্রকৃতির এই নির্মল রূপকে আমরা সাদরে সম্ভাষণ জানাই এবং এর মাঝেই খুঁজে নিই জীবন চলার নতুন আনন্দ।
সম্পাদক: তাওহীদ পাটোয়ারী মনির
প্রকাশক: তাহমিনা চৌধুরী অরিন
অফিস : ৫৫/এ, সিদ্দিক ম্যানসন, পুরানা পল্টন, ঢাকা ১০০০
মোবাইল : 01518430640
ই-মেইল : info@ttvbangladesh.com