৩৭ বছর ধরে ব্যবসা, কখনো পঁচা মাংস বিক্রি করিনি — সংবাদ সম্মেলনে আরাদন মিয়া
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মাংস ব্যবসায়ী আরাদন মিয়ার সংবাদ সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১২ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেলে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পৌর শহরের বাসিন্দা দূর্গাপুর মোর বাজারের মাংস ব্যবসায়ী মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে যে অভিযোগটি তার বিরুদ্ধে করা হয়েছে তা ঠিক না, মিথ্যা বলে সংবাদ সন্মেলন করেছেন আরাদন।
তিনি ১৫ জন সাংবাদিকদের সামনে তার লিখিত বক্তব্যটি তুলে ধরেন। সংবাদ সন্মেলনে তিনি বলেন- উপস্থিত সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম।
আমি মোহাম্মদ আরাদন মিয়া, কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের দূর্গাপুর মোর বাজারের একজন মাংস ব্যবসায়ী। আমি ৩৭ বছর যাবৎ এই ব্যবসা করছি আমার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত কোন অভিযোগ নাই। আজ আপনাদের মাধ্যমে আমি ও আমার ব্যবসায়ের সুনাম বিনষ্ট করার একটি অপচেষ্টা ও সম্পূর্ণ মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানাতে হাজির হয়েছি।
ঘটনার সত্যতা হলো-গত ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার গৌরীপুর থেকে এক সাংবাদিক আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি করেছেন, তার কোনো মাংস আমি বাজারে বিক্রি করিনি। ওই এলাকা থেকে একটি গরু কেনার কথা চলছিল, গরুটি হাটাচলা বা উঠতে পারছিল না ঠিকই, তবে সেটি জীবন্ত ছিল। গরুটির মাংস আমি কেনাকাটা বা আনয়নের জন্য নিজে সে এলাকায় যাইওনি; অন্য একজন লোককে পাঠানো হয়েছিল। হিন্দু বাড়ি থেকে গরুটি আগেই জবাই করে দেওয়া হবে-এ বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম। যদি আগে থেকে জানতাম, তবে কোনোভাবেই সেই মাংস আমি সংগ্রহ করতাম না।
মাংস কেন্দুয়ায় নিয়ে আসার পর গৌরীপুর এলাকা থেকে টেলিফোনে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মাধ্যমে আমাকে জানানো হয় যে, গরুটি স্বাভাবিক জবাই ছিল না। এ খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমি সিদ্ধান্ত নিই এবং সমস্ত মাংস একটি স্থানে 'আমানত' হিসেবে রেখে দিই বাজারে তার এক ছটাকও মাংস বিক্রি করা হয়নি।
এরপর ব্যক্তিগত জরুরি প্রয়োজনে আমাকে চট্টগ্রামে যেতে হয়। সেখান থেকেই জানতে পারি যে, অসাধু চক্র উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে-আমি নাকি বাজারে 'পঁচা মাংস' বিক্রি করেছি!
আমি সুস্পষ্টভাবে বলছি, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। একজন ঈমানদার ও সৎ ব্যবসায়ী হিসেবে আমি কখনো হারাম বা পঁচা মাংসের কারবার করিনি।
আমি আপনাদের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রচারণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সঠিক তথ্য তুলে ধরে সত্য উন্মোচনের জন্য অনুরোধ করছি, আপনাদের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ।
এই বিষয় উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার অফিস সহকারী কামরুল ইসলামকে স্বরে জমিনে পাঠায়, এবং তাৎক্ষণিক কামরুল ইসলাম মরা গরুর মাংস মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল তা দেখে আসেন এবং সাংবাদিকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন।
সম্পাদক: তাওহীদ পাটোয়ারী মনির
প্রকাশক: তাহমিনা চৌধুরী অরিন
অফিস : ৫৫/এ, সিদ্দিক ম্যানসন, পুরানা পল্টন, ঢাকা ১০০০
মোবাইল : 01518430640
ই-মেইল : info@ttvbangladesh.com