নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের চরনগরদী বাজার থেকে চিনিশপুর হয়ে ভেলানগর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সরু ও আঁকাবাঁকা থাকায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন হাজারো মানুষ। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন, গর্ত ও পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চরনগরদী বাজার থেকে চিনিশপুর হয়ে ভেলানগর জেলখানার মোড় এবং চিনিশপুর কালিমন্দির হয়ে ভেলানগর বাজার পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কটি অত্যন্ত সংকীর্ণ। ফলে পাশাপাশি দুটি বড় যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। রিকশা, অটোরিকশা, সিএনজি ও পথচারীদেরও এ পথে চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। জরুরি রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার সময় যানজটে আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটির অপ্রয়োজনীয় বাঁকগুলো সোজা করে প্রশস্ত করা হলে দূরত্ব ও যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি নরসিংদী জেলা সদরের সঙ্গে পলাশ উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে।
ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা বলেন, সড়কটি পলাশের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান সড়কটি প্রশস্ত ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
পলাশ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন ভূইয়া মিল্টন জানান, সড়ক প্রশস্তকরণের বিষয়ে ড. আব্দুল মঈন খান নরসিংদী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছেন। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পলাশ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও জিনারদী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক মো. রাকীন মাশরুর খান জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সড়কটির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নরসিংদী এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম শওকত জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সড়কটি দ্রুত সংস্কার, প্রশস্ত ও আধুনিকায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পলাশবাসী।

