প্যারাভাংগা কমিউনিটি ক্লিনিক: কর্মীর অনুপস্থিতিতে ‘খালা’নির্ভর স্বাস্থ্যসেবা
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার প্যারাভাংগা কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মিনা আক্তার প্রায় ৯ বছর ধরে কর্মরত থাকলেও নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় তাঁর অনুপস্থিতি অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বাস্থ্য সহকারী আল মামুনের সপ্তাহে তিন দিন ক্লিনিকে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও তিনিও নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না; মাঝে মধ্যে ক্লিনিকে আসেন। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার রোগীরা প্রয়োজনীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাসে এক হাজার টাকা পারিশ্রমিকে চুক্তিতে রাখা প্রতিবেশী রিনা ‘খালা’ই এখন ক্লিনিকটির দরজা খোলার অন্যতম ভরসা। তিনি না থাকলে ক্লিনিকটি দিনের পর দিন তালাবদ্ধ থাকত বলেও দাবি তাদের।
সরেজমিনে ক্লিনিকটিতে গিয়ে ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়া ও জরাজীর্ণতার চিত্র দেখা গেছে। দেয়ালে বিভিন্ন ওষুধের তালিকা থাকলেও বর্তমান মজুদের তথ্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। এ সময় রোগীদের নিয়মিত সেবা দেওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়েনি।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ থাকলেও কর্মীদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে প্যারাভাংগা কমিউনিটি ক্লিনিকে সেই সেবা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাচ্ছে না। তারা বিষয়টি তদন্ত করে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল করিমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

