‘গণরায়ের বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে’
—সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম
প্রতিনিধি মোঃআবুজাফর মন্ডল এখলাছ
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ সফল করতে গাইবান্ধায় ১১ দলীয় ঐক্যের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় পলাশবাড়ী চৌমাথায় ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে লংমার্চ ও পলাশবাড়ী পথসভা সফল করার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন প্রস্তুতি ও কর্মসূচির বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে কোনো আপস করার সুযোগ নেই। গণভোটে জনগণ যে গণরায় দিয়েছে, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে বিচারের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ আজ নানামুখী সংকটের মধ্যে রয়েছে। বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকটের কারণে জনজীবন ও কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব সংকট নিরসনে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
মাওলানা আবদুল হালিম আরও বলেন, দেশে আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংকীর্ণ দলীয়করণ পরিহার করে যোগ্যতা, ন্যায় ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও দৃশ্যমান উন্নতি ঘটাতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; এটি জনগণের ন্যায়সংগত দাবি ও অধিকার আদায়ের একটি শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের কর্মসূচি। দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করা হবে। তিনি লংমার্চ ও পলাশবাড়ী পথসভা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফল করতে দলীয় নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন ও গাইবান্ধার সাবেক জেলা আমীর ডা. আব্দুর রহিম সরকার।
গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ও জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বায়ক সৈয়দ রোকনুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি ও পলাশবাড়ী পথসভা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এমপি, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক এস এম খাদেমুল ইসলাম (খুদি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মুফতি মাওলানা আবু ইউসুফ, এলডিপির জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম, জাগপার জেলা সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম, এবি পার্টির জেলা আহ্বায়ক মো. খাইরুল ইসলাম, বিডিপির জেলা সভাপতি মো. সুলতান মাহমুদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এর অংশ হিসেবে ওই দিন বিকেল ৪টায় পলাশবাড়ী চৌমাথায় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচি সফল করতে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

