Dhaka post
ঢাকামঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. খেলা
  3. চাকরি
  4. জীবনযাপন
  5. বাণিজ্য
  6. বাংলাদেশ
  7. বিনোদন
  8. বিশ্ব
  9. মতামত
  10. রাজনীতি
  11. সর্বশেষ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মন হারানোর ঠিকানা ও লেখালেখির জগৎ

বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী , জেলা প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

*দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত*

*অ্যাসাইনমেন্ট*

*বিষয়* : *মাধুরী ব্যানার্জীর সাক্ষাৎকার পর্ব*:

*বিষয়*: “*মন হারানোর ঠিকানা ও লেখালেখির জগৎ*

*প্রতিনিধি*: *বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী*, *জেলা প্রতিনিধি*

*০১* *লেখালেখির শুরুটা কীভাবে হয়েছিল? আপনার লেখক হয়ে ওঠার পেছনে বিশেষ কোনো ঘটনা, মানুষ কিংবা অনুপ্রেরণা কি কাজ করেছে?*

*উত্তর*: বাংলা সাহিত্য সব সময়ের জন্যই আমার পছন্দের । ছোট বেলা থেকেই আমার বই পড়ার অভ্যাস ছিল। কোনো একসময় মনে হলো আমিও তো, এভাবে লিখতে পারি। অন্যের লেখা গল্প ও কবিতা পড়ার পাশাপাশি নিজের ভেতরেও যে কাব্যিকতা, আবেগানুভূতি জমে থাকে, সেগুলোও তো আমি লিখে প্রকাশ করতে পারি। আর -এ ধারণা থেকেই আমার লেখালেখির জগতে পদার্পণ।
আমার লেখালেখি শুরু ২০০৮ সাল থেকে ।
তারপর থেকে আমার কলম আর থেমে থাকেনি। লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে ছড়া-কবিতা-গল্পসহ আমার সকল লেখাই ডাইরিতে লিখে রাখতাম। তবে প্রথম থেকে আমার লেখা কবিতা, ছড়া ও গল্পগুলো সেভাবে প্রচার করা হয়ে ওঠেনি। ২০২০ সাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন সাহিত্য গ্রুপে যোগদান করি। তখন থেকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সাহিত্য গ্রুপগুলোতে নিয়মিতভাবে লেখা প্রকাশ করতে শুরু করি। সাহিত্য গ্রুপগুলো ছাড়াও বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও সাহিত্য স্মরণিকাতে ধারাবাহিক পরিক্রমায় লেখা প্রকাশ হতে থাকে। ইতিমধ্যে আমার ২টি একক কাব্যগ্রন্থ ও ৫টি যৌথ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সংকলনে আমার লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে । আর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সাহিত্য গ্রুপগুলোর প্রতিযোগিতামূলক ইভেন্টে কবিতা, ছড়া ও অণুগল্প পাঠিয়ে সেখানে বিজয়ী হয়ে দুই সহস্রাধিক সম্মাননা সনদ অর্জন করেছি। জীবন থেকে অনুভব করা ঘটনা প্রবাহ , আবেগ, অনুভূতি, স্বপ্ন, কল্পনা,পারিপার্শ্বিক প্রকৃতি, পরিবেশ, পরিচিতদের আনন্দ-বেদনার গল্পগুলো আমাকে লেখার উপকরণ জুগিয়েছে।
আবার কোনো কোনো সময় এমন কিছু অনুভূতি হৃদয়-মনে অবস্থান নেয়, যা মন খুলে কাউকে বলাও যায় না, সেসব বিষয়ও লিখে ফেলি মনের অজান্তেই। আমার কাছে লেখালেখি হচ্ছে অনেকটা নিজের সাথে নিজের কথোপকথনের মতো।
আর এজন্যই বোধহয় ছড়া, কবিতা ও গল্প লিখতে বসলে নিজের ভেতরের অচেনা মানুষটাকেও যেন নতুন করে চেনা হয়ে যায়। বিশেষ করে মনের যে কথাগুলো কাউকেই বলার সুযোগ হয় না, আর গুটিয়ে রাখা অনুভূতিগুলো যা অনুক্ত থাকে সেগুলো প্রকাশের একটি অদম্য ইচ্ছে আমার লেখালেখিতে প্রতিফলিত হয়।
লেখিকা হওয়ার পেছনে যাদের অবদান ও অনুপ্রেরণা আমাকে এ জগতে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে তাদের মধ্যে অন্যতম আমার স্বামী অসীম ব্যানার্জী ও আমার বান্ধবী বিপাশা।

*০২*: *মন হারানোর ঠিকানা’তে যে নীরব প্রেম ও বিচ্ছেদের যন্ত্রণা উঠে এসেছে – এটি কি নিছক সাহিত্যিক কল্পনা, নাকি আপনার দেখা কোনো বাস্তব জীবনের গভীর সত্যের প্রতিফলন?*

*উত্তর*: “মন হারানোর ঠিকানা ” নিছক কোনো কল্পনা যেমন নয়, আবার এটিকে সরাসরি আত্মজীবনীও বলা ঠিক না। অনেক সময় লেখকের লেখায় জীবনানুভূতির বহি:প্রকাশের পাশাপাশি কল্পনা ও বাস্তব ঘটনা প্রবাহের প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হতে পারে। প্রতিটি মানুষের জীবনে কোনো না কোনোভাবে ভালোবাসা, অপেক্ষা, পাওয়া কিংবা হারানোর মতো বিষয় তো থাকতেই পারে।
“মন হারানোর ঠিকানা”কে কোনো নির্দিষ্ট মানুষ বা ঘটনার সঙ্গে মেলানো ঠিক হবে না। তবে গল্পের আবেগ গুলোতে ভালোবাসা, হারিয়ে ফেলা, অপেক্ষা, অভিমান, না পাওয়া, অপূর্ণতা, আর বিরহ-বিচ্ছেদের সত্যতাও প্রতীয়মান। হয়তো সে কারণেই পাঠক গল্পের মাঝে নিজের জীবনের কোনো না কোনো অনুভূতি ও ঘটনার ছায়া খুঁজে পান।

*০৩* : *আপনার লেখায় ভালোবাসার পাশাপাশি হারিয়ে ফেলা, অপেক্ষা ও অপূর্ণতার ছায়া দেখা যায়। আপনার কাছে কি সত্যিকারের প্রেম মানেই কোনো না কোনো ভাবে হারানোর ভয়?*

*উত্তর* : হয়তো কিছুটা ঠিক। তবে আমার কাছে সত্যিকারের প্রেমে হারানোর ভয় নয়, বরং ভালোবাসা যত গভীর হয়, হারানোর আশঙ্কাটাও তত বেশি এটাই অনুভূত হয়। মানুষের যাপিত জীবনে সকল ভালোবাসাই তো আর পূর্ণতা পায় না। -কিছু ভালোবাসা অপেক্ষা হয়ে থাকে, আবার কিছু ভালোবাসা স্মৃতি হয়ে আমৃত্যু থেকে যায় মানুষের জীবনে।
আর একারণেই বোধহয় আমার লেখায় ভালোবাসা, হারিয়ে ফেলা,অপেক্ষা ও অপূর্ণতার ছায়া অনেক পাঠকেরই দৃষ্টিগোচর হয়।

*০৪* *একজন লেখক যখন নিজের অনুভূতিকে সাহিত্যে প্রকাশ করেন, তখন ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সৃষ্টিশীল সত্যের মধ্যে সীমারেখা কোথায় টানেন?*

*উত্তর* : সৃষ্টিশীলতার মাঝে কাল্পনিক এবং বাস্তবিক ঘটনা থাকে তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রকাশিত হয় একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। সৃষ্টিশীল সত্য ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এমন একটি জায়গা পর্যন্ত প্রকাশ করা উচিত, যেখানে আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজন ও সামাজিক মাধ্যমের মানুষের কাছে কুরুচিপূর্ণ না হয়ে ওঠে এবং তার আত্মসম্মানে আঘাত না করে। আমি মনে করি ব্যক্তিগত অনুভূতি যে কোনো লেখার উপাদান হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। কিছু কিছু লেখায় বাস্তব বিষয়াবলী, পারিপার্শ্বিক অবস্থান থেকে ঘটনা প্রবাহ সম্বলিত অভিজ্ঞতালব্ধ ধারণা স্থান পেতে পারে। তবে আবেগ, কল্পনা, ও সৃজনশীল শিল্পের ভেতর দিয়েই প্রতিটি লেখাকে আমি আমার মতো করে সাজিয়ে নিই।
যেখানে কোনো মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদা, অবস্থান, গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ঠিক সেখানেই আমি সীমারেখা টানি।

*০৫* : *আজকের সাহিত্যে জনপ্রিয়তা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লাইক-কমেন্ট ও দ্রুত পরিচিত হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। একজন প্রকৃত লেখক কি পাঠকের রুচির কাছে আপস করে লিখবেন, নাকি পাঠকের অস্বস্তিকর সত্যটাও তুলে ধরবেন?*

*উত্তর* : সামাজিক মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখেই লেখা উচিত। পাশাপাশি মানুষের ভালোলাগাকে যথাযথভাবে সম্মান প্রদর্শন করা অত্যাবশ্যক।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইক-কমেন্ট সাময়িক স্বীকৃতি দিতে পারে, কিন্তু একজন লেখকের দীর্ঘস্থায়ী পরিচয় তৈরি হয় তার লেখার মূল ভিত্তি ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে।
নিজেকে জনপ্রিয় ও সুপরিচিত করার ক্ষেত্রে নিজের লেখার মূল উপাদানগুলোকে পাশ কাটিয়ে পাঠকের রুচির কাছে আপস করা ঠিক নয়।

*০৬* : *আপনার লেখা যদি পাঠকের হৃদয়ে একটি প্রশ্ন রেখে যায়- আপনি চান সেই প্রশ্নটি কী হোক : আমি কাকে ভালবাসি? কাকে হারিয়েছি? নাকি নিজেকেই কি কোথাও হারিয়ে ফেলেছি?*

*উত্তর* : আমি চাই প্রশ্নটা এমন হোক “আমি কি কোথাও নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছি”?
এর কারণ ভালোবাসা, মায়া, আবেগানুভূতি, আনন্দ-
বেদনা, পূর্ণতা-অপূর্ণতা, বিরহ-বিচ্ছেদ কিংবা কাউকে হারানোর গল্পের আড়ালে শেষ পর্যন্ত মানুষ নিজেই নিজের কাছে ফিরে আসে। অন্য কাউকে খুঁজছে গিয়ে আমরা অনেক সময় নিজের অস্তিত্বকেও হারিয়ে ফেলি।
পরিশেষে বলছি: আমার লেখা যদি পাঠকপ্রিয়তা পায় ও পাঠককে নিজের ভেতরে তার নিজস্ব ভূবনে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয় , -তবে সেটাই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।