নরসিংদীর রায়পুরায় প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগও রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযানে নেমে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের কান্দাপাড়া এলাকার দিপু (১৮) ও রাকিব হাসান রুবেল (২০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে ভুক্তভোগী কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ির পাশের চর মরজাল এলাকার হুমায়ুন মিয়ার বাড়ির সামনের সড়কে যান তিনি। এ সময় স্থানীয় চার যুবক আক্কা, দিপু, রাকিব হাসান রুবেল ও জসিম সেখানে উপস্থিত হলে কিশোরীর প্রেমিক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে অভিযুক্তরা কিশোরীকে একই এলাকার এমদাদুল হকের পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে আক্কা ও দিপু তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় রাকিব হাসান রুবেল ও জসিম মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে কিশোরীর মা রায়পুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার অভিযুক্তের মধ্যে দিপু ও রাকিব হাসান রুবেলকে গ্রেপ্তার করে। অপর দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, “আমার মেয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আমি জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, “ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। চার অভিযুক্তের মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য দুইজনকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

