-দিনাজপুরের কাহারোলে এক অজ্ঞাতনামা পরিচয়ের উদ্ধারকৃত লাশের ঘটনা, প্রায় চার মাস পরে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ এবং দুই আসামিকে গ্রেফতার আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড ঘটনা।
-গত প্রায় চার মাস পূর্বে, সেদিন ছিল পবিত্র ঈদুল আযহা গত-২৮/৫/০২৬-ইং তারিখে কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের গড়নুরপুর এলাকায়, আশ্রম ঘাটে ঢেপা নদীর তীরে ভদ্রকালি মন্দিরের দক্ষিণ পাশে বিকাল আনুমানিক ৫ ঘটিকায় স্থানীয়দের সন্ধানে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
-পরবর্তী পুলিশ অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যায় এবং লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সন্ধান পেলে দাফন সম্পন্ন হয়।
-তবে এ ঘটনার তথ্য ও রহস্য উদঘাটনের চেষ্টায় তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে আসল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
-হত্যাকান্ডে শিকার নিহত ভিকটিম মেহেদী হাসান (২৬) ছিলেন, ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার ফকিরাবাদ
গ্রামের মোঃ রবিউল ইসলামের ছেলে।
-ওই ঘটনায়, পুলিশের অধিকত্তর তদন্তে বেরিয়ে আসে অজ্ঞাতনামা লাশের একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য ‘গল্প’ হত্যাকারী মামলার ১নং আসামী শিল্পী আক্তার এর সাথে নিহত ভিকটিম মেহেদী হাসান এর মোবাইলের মাধ্যমে পরিচয় হয়েছিল। আসামি শিল্পী ২নং আসামী আব্দুল মমিন মন্ডল রকি এর বিবাহিত স্ত্রী জেনে ঝিনাইদহে গিয়ে ভিকটিম এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
-এ ছাড়াও ঝিনাইদহ সহ বিভিন্ন স্থানে স্বামী স্ত্রী হিসাবে শারিরীক সম্পর্কে মিলিত হয় ,ভিকটিম কৌশলে তাদের অন্তরঙ্গ মিলন দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও ধারন করেন। ২নং আসামী মোঃ মোমিন মন্ডল রকি পেশায় একজন পরিবহন শ্রমিক সে দিনাজপুর চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচলরত বিআরটিসি বাসের হেলপার হিসাবে কাজ করতেন।
-এবং-২নং আসামী বিআরটিসি বাসে কাজে গেলে ঐ সুযোগে মামলার ১নং আসামী মোছাঃ শিল্পি আক্তার ওরফে লিমা এর বাড়ীতে এসে ভিকটিম মেহেদী হাসান শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন । বিষয়টি ১নং আসামী শিল্পি খাতুন ওরফে লিমা এর স্বামী ২নং আসামী মোঃ মোমিন মন্ডল রকি সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জেনে গেলে তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়।
-এছাড়াও বিভিন্ন সময় ভিকটিম মেহেদী হাসান মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও ভাইরাল করার ভয়-ভীতি দেখিয়ে ১নং আসামী শিল্পি খাতুন ওরফে লিমার নিকট বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে নগদ টাকা দাবী করতেন ,তার দাবীর প্রেক্ষিতে ১নং আসামী শিল্পি আক্তার ওরফে লিমা সংসারের খরচ বাঁচিয়ে এবং বিভিন্ন উপায়ে ভিকটিম মেহেদী হাসান ২নং আসামীর অগোচরে দাবীও পুরন করতেন।
-গত -(২৫/০৫/২০২৬)-ইং তারিখ সকাল অনুমান ১০ ঘটিকার দিকে ভিকটিম মেহেদী হাসান স্ত্রীকে নিজ বাড়ীতে আনার জন্য ঝিনাইদহ থেকে দিনাজপুর রওনা দেয় । ২নং আসামী বিআরটিসি বাসে কাজে গেলে ভিকটিম মেহেদী হাসান-(২৫/০৫/২০২৬)- ইং তারিখ রাত্রী অনুমান ১০ ঘটিকার সময় ১নং আসামী শিল্পি খাতুন ওরফে লিমার বাড়ীতে পৌছালে। সে রাত্রী যাপনের পরে মেহেদী তা মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে দুইলক্ষ টাকা দাবী করে । এতে ১নং আসামী শিল্পি খাতুন ওরফে লিমা মেহেদী হাসান এর উপর ক্ষিপ্ত হয়।
-এক পর্যায়ে, ২নং আসামী মোঃ মোমিন মন্ডল রকি ডিউটি শেষে বাড়ীতে ফিরলে, ১নং আসামী শিল্পি খাতুন ওরফে লিমা বিষয়টি ২নং আসামী মোঃ মোমিন মন্ডল রকিকে অবগত করলে উভয়ে পরিকল্পনায়। মেহেদী হাসান কে টাকা দেওয়ার কথা বলে রাস্তায় চলাচলরত অটোরিক্সাতে করে তাদের বাড়ী হতে কাহারোল থানাধীন ৫নং সুন্দরপুর ইউনিয়নের গড়নুরপুর আশ্রমঘাটে ভদ্রাকলি মন্দিরের দক্ষিনপাশে ঢেপা নদীর পাড়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং সেখানে কথাবার্তার এক পর্ষায়ে পুর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী -(২৬/০৫/২০২৬)-ইং তারিখ রাত্রী অনুমান ১০.৩০ ঘটিকার সময় গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে এবং তার লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যেই ঢেপা নদীতে ফেলে দিয়ে যায়। দুই দিন পর স্থানীয়দের সন্ধানে সেই অজ্ঞাতনামা মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
-হত্যাকারী দুই আসামিদের পরিচয়,শিল্পি আক্তার,(৩২), পিতা-শহিদুল আলম, মাতা-সুরাতন বেগম,এর(সাবেক স্বামী ছিলেন) দ্বিতীয় আসামি মোঃ আব্দুল মমিন রকি (৩৮), উভয়ের ঠিকানা সদরপুর গ্রাম কোতোয়ালি থানা,দিনাজপুর।
-এ বিষয়ে কাহারোল থানা অফিসার ইনচার্জ সেলিমুুর রহমান জানায়, উদ্ধারকৃত অজ্ঞাতনামা লাশের ঘটনাটি তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ, আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবং বিজ্ঞ আদালতে আসামিরা স্বীকারোক্তি দিয়েছে। ২৪/৯/২০২৬ ইং তারিখে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে, মামলা নং-১০- ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় ১৮৬০ পেনাল কোড।

