সাংবাদিকের ওপর হামলা ও সংবাদ প্রকাশে চাপ প্রয়োগের প্রতিবাদে জেলা জিএসএ-র বিবৃতি
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় সাংবাদিকের ওপর হামলা ও সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা গণসংহতি আন্দোলন।
সাতক্ষীরায় সাংবাদিক ও দৈনিক সাতনদী পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক হাবিবুর রহমানের ওপর হামলা, মারধর, হত্যার হুমকি এবং সংবাদ প্রকাশের কারণে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা ঘটে।
একটি সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া, হামলা করা কিংবা সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়,এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা,স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং জনগণের জানার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করার জঘন্যতম অপচেষ্টা।
সাংবাদিকরা সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি, অন্যায় ও অপরাধের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরেন,কোনো সংবাদ কারও বিরুদ্ধে গেলে তার জবাব হওয়া উচিত তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবাদ বা আইনগত ব্যবস্থা,সাংবাদিককে হামলা, হুমকি কিংবা ভয়ভীতি দেখানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সাতক্ষীরা জেলা গণসংহতি আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ মনে করে, সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
গণসংহতি আন্দোলনের সদস্য সচিব রুবেল গাইন বলেন আমরা স্পষ্টকরে বলতে চাই,হামলা,হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সত্য সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সাতক্ষীরা জেলা গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ হতে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাই।
জেলা জিএসএ-র যুগ্ম আহবায়ক ও জিএসএ-র জাতীয় পরিষদের সদস্য, আলফাত হোসেন বলেন,একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হত্যার হুমকি কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই,সংবাদ প্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিককে ভয় দেখানো, মারধর করা কিংবা ভবিষ্যতে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা মূলত মানুষের জানার অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত,এজন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা যাবে না। কোনো সংবাদে কারও আপত্তি থাকলে আইনসম্মতভাবে তার প্রতিবাদ বা প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে,কিন্তু সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়ে কিংবা হত্যার হুমকি দিয়ে সত্য প্রকাশ বন্ধ করার চেষ্টা সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।
এদিকে জেলা জিএসএ-র সদস্য ও আশাশুনি উপজেলা জিএসএ-র আহবায়ক ছুরাত আলী গাজী বলেন,সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের ওপর হামলার যে অভিযোগ উঠেছে,তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে,একই সঙ্গে তাঁর ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
জেলা জিএসএ-র সদস্য কালীগঞ্জ উপজেলা জিএসএ-র সংগঠক সুকুমার রায় বলেন,আমরা চাই,সাতক্ষীরায় এমন একটি পরিবেশ তৈরি হোক,যেখানে সাংবাদিকরা কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই সত্য ও জনস্বার্থের সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন। সাংবাদিকের কলম থামিয়ে দেওয়া মানে জনগণের কণ্ঠ থামিয়ে দেওয়া। আর জনগণের কণ্ঠরোধের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকব।

