Dhaka post
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১ অক্টোবর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. খেলা
  3. চাকরি
  4. জীবনযাপন
  5. বাণিজ্য
  6. বাংলাদেশ
  7. বিনোদন
  8. বিশ্ব
  9. মতামত
  10. রাজনীতি
  11. সর্বশেষ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সরকার ও বিএনপি কী হারালো!

সায়ন্থ সাখাওয়াৎ
অক্টোবর ১, ২০২৬ ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সরকার ও বিএনপি কী হারালো!

একটি রাষ্ট্রের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে কিছু মুহূর্ত আসে, যেগুলো শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—জাতীয় আত্মপরিচয়, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তার বার্তা বহন করে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়ে এমনই একটি মুহূর্ত তৈরি করেছেন।

সফরের শুরু থেকেই কিছু বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তুলনামূলক ছোট ও নির্বাচিত টিম, কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী সদস্য বাছাই, অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে চলা—সব মিলিয়ে সফরটিকে একটি পরিকল্পিত ও পেশাদার কাঠামোর মধ্যে রাখার চেষ্টা দেখা গেছে। তিনি কোথাও সংবর্ধনাও নেননি ।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তিনি বাংলায় বক্তব্য দিয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের পর বাংলাদেশের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের জন্য তাঁর 3R- Recovery, Restoration and Reconstruction—কৌশলের কথা তুলে ধরেছেন। যে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেছেন তারেক রহমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিস্টার খলিলুর রহমান।

এটি নিছক একটি বক্তৃতা ছিল না। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বয়ান হাজির করার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও মানবিক বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা—এসব বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

দেশের ভেতরে স্বাভাবিকভাবেই এই সফর নিয়ে গভীর আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

প্রশ্ন হওয়ার কথা ছিল—নতুন বাংলাদেশকে তিনি বিশ্বদরবারে কীভাবে উপস্থাপন করলেন? গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্যাত্রার বার্তা কতটা স্পষ্ট হলো? অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও রাষ্ট্র সংস্কারের পরিকল্পনাগুলো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হলো? রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ইস্যুতে বাংলাদেশ কী ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইছে?

কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা অনেক সময় বড় অর্জনকে বড় করে আলোচনার সুযোগ দেয় না।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরপরই ঢাকায় রাডডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট এবং নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরসহ একাধিক ঘটনা সামনে আসে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক হামলা, ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

আর এখানেই আসল প্রশ্ন।

ষড়যন্ত্র ছিল কি না—এটি তদন্তের বিষয়। কিন্তু রাষ্ট্র কেন এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে দিল, যেখানে একটি বড় জাতীয় ও কূটনৈতিক অর্জনের পরপরই জনআলোচনার কেন্দ্র দখল করে নিল আইনশৃঙ্খলার সংকট?

এই প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

কেউ কেউ বলছেন, ঘটনাগুলো পরিকল্পিত। উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের মূল্যায়নকে আড়াল করা। এমনকি এখানে রাজনৈতিকভাবে বিএনপির কিছু লোককে ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে।

বরং রাষ্ট্রের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ষড়যন্ত্র না থাকলেও কি আমরা নিজেদের দুর্বলতার কারণে একটি অর্জনকে নষ্ট হতে দেব?

এই প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ রাডডা কেন্দ্রের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে, লুট হওয়া সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। নিউ গিনি প্রপার্টিজ ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাতেও গ্রেপ্তার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে নিউ গিনি-সংক্রান্ত ঘটনাটিকে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি ঘটনাকে একই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখার মতো চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো সামনে নেই।

কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য—এতগুলো ঘটনা পরপর ঘটলে রাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।

একটি সরকার যদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সফর সম্পন্ন করে, অথচ দেশে ফিরে কয়েক দিনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন ঘটনাপ্রবাহ তৈরি হয়, যার ফলে সেই সফরের বক্তব্য, অর্জন ও কূটনৈতিক গুরুত্ব গণমাধ্যমের আলোচনার বাইরে চলে যায়—তাহলে সেটি নিছক যোগাযোগের ব্যর্থতা নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্যও একটি সতর্ক সংকেত।

ইউনিক কিছু অর্জন করা যেমন নেতৃত্বের কাজ, সে অর্জনকে সুরক্ষিত রাখাও নেতৃত্বের কাজ।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি দেশের অবস্থান তুলে ধরতে মাসের পর মাস প্রস্তুতি লাগে। কিন্তু একটি অনিয়ন্ত্রিত ঘটনা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই আলোচনার গতিপথ বদলে দিতে পারে।

এ ঘটনাগুলোতে যদি ষড়যন্ত্র থাকে, তা উদ্ঘাটন করতে হবে।
যদি কোনো দলের নেতা-কর্মী জড়িত থাকে, হোক তা সরকারি দলের বা অন্য কোনো দলের, দলীয় পরিচয় তাকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না।

বিএনপির জন্য এর মধ্যে একটি বড় রাজনৈতিক শিক্ষা আছে। সরকারে থাকা অবস্থায় দলের নামের সঙ্গে যুক্ত যেকোনো অনিয়ম শেষ পর্যন্ত সরকারের ভাবমূর্তিতেই আঘাত করে। তাই দলীয় শৃঙ্খলা, নেতা-কর্মীদের আচরণ এবং প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ—এসব বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জরুরি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।